Saturday, July 4, 2020
Click
Home Blog

করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ২০ জনের মৃত্যু

0

করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীতে গত দুই দিনে আট জনের মৃত্যু ঘটেছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল সোমবার চার জন ও গত রবিবার তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মারা যান নগরীর দরগাপাড়ার ইনতাজ আলী (৬৫), ছোটবনগ্রামের আমজাদ আলী (৭২) ও নওগাঁর ধামইরহাটের ইস্থান নিউজ (৪৫)।

এছাড়া মিশন হাসপাতালে মারা গেছেন অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি। রামেক হাসপাতালে রবিবার মারা যান আহমেদ কুরিয়ার সার্ভিসের মালিক ও নগরীর আলুপট্টির বাসিন্দা নবুয়াত আলী (৫০), নগরীর শাহ্ মখদুম থানার পবা নতুনপাড়ার বাসিন্দা মতিউর রহমান (৫৬) ও জেলার বাঘা উপজেলার মনিগ্রামের বাসিন্দা মো. সেন্টু (৪৮)।

‘করোনামুক্ত’ ঘোষণার পরদিনই যুবকের মৃত্যু : করোনামুক্ত ঘোষণার পরদিনই জেলার চারঘাট উপজেলার ঝিকড়া গ্রামের যুবক মনসুর রহমানের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষার আগেই রবিবার তাকে সুস্থ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। চারঘাটের ইউএনও সৈয়দা সামিরা জানান, মনসুর রহমান হৃদরোগী ছিলেন। সে কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। মনসুর রহমান পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে সোমবার দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মারা যান উপজেলার খারুয়া বড়াইল গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৪৫)। আর দুপুরে মারা যান পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিলাসী ফকির বাড়ি এলাকার আফাজ উদ্দিন (৪৫)। গোলাম মোস্তফা ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতেন।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জে গত রবিবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মারতী সরকার (৪১) ও হামিদা বেগম (৫১) নামে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মারতীর বাড়ি ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামে এবং হামিদা বেগমের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জয়রা হাট এলাকায়। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করে সাভার প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত তফাজ্জেল হোসেনের (৬৮) বাড়ি ঝালকাঠী সদরের চাঁদকাঠী এলাকায়। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গত রবিবার ময়মনসিংহের ভালুকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—উপজেলার কাশর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন এবং ছফর উদ্দিন।

বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বরগুনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের থানা পাড়া শহিদ স্মৃতি সড়কের বাসিন্দা নির্মল রায় (৫৫) রবিবার সকালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। পরে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর উদ্যোগে রবিবার রাতেই নির্মল রায়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বরিশালে প্রেরণ করা হয়। সোমবার সকালে করোনা প্রটোকল অনুসরণ করে মৃত ব্যক্তির সত্কার সম্পন্ন করা হয়।

খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মুস্তাকিন নামে পাঁচ মাসের এক শিশু সোমবার ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায়। মুস্তাকিন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার উলা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সোমবার করোনা উপসর্গ নিয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে মারা যান উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের শাজাহান চৌধুরী (৫০) ও দুপুরে পাথরঘাটা স্টেশনের ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদারের (৪০) মৃত্যু হয়।

মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অফিস সহায়ক রেদওয়ানুল কবির (৩৬) করোনা উপসর্গ নিয়ে সোমবার ভোরে মারা গেছেন। তার বাড়ি উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পদুয়া গ্রামে।

মেসি-ফাতির গোলে বার্সার জয়

0

করোনা ভাইরাসের তোপে অনেককিছু বদলে গেলেও একটু বদলাননি লিওনেল মেসি। দীর্ঘ বিরতি শেষে মাঠে ফিরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন। বার্সেলোনাও পেয়েছে টানা দ্বিতীয় জয়।

মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠে লেগানেসের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে কিকে সেতিয়েনের শিষ্যরা। বার্সার পক্ষে প্রথম গোলটি আদায় করেন তরুণ তারকা ফুটবলার আনসু ফাতি।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিওনেল মেসি।

এই জয়ের ফলে ২৯ ম্যাচ থেকে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ৫৯ পয়েন্ট। বার্সার চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা।

অপুর অভিমান !

0

চলচ্চিত্রে এখন নিয়মিত নন এক সময়ের ব্যস্ত তারকা অপু বিশ্বাস। মাঝে বেশ কয়েকটি সিনেমার কথা শোনা গেলেও একটি সিনেমা শেষ করেছেন তিনি। বাপ্পী চৌধুরীর বিপরীতে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ সিনেমাটি শেষে মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে আর মুক্তি পায়নি সিনেমাটি। তবে সিনেমা না থাকলেও বিভিন্ন কারণে আলোচনায় থাকেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি পোস্ট নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন এই নায়িকা।

অপু বিশ্বাস লেখেন, ‘২০১৭ সালে সন্তানকে নিয়ে যখন বিপাকে পড়ি তখন বুকভরা আশা নিয়ে গিয়েছিলাম এক লিজেন্ডের কাছে। ২ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বললো উনি বাসায় নেই। কয়েক বছর পর এক সিনিয়র সাংবাদিকের মুখে শুনতে পারলাম লিজেন্ড হাসিমুখে বলেছে অপু বিশ্বাস তার সন্তানকে নিয়ে ও গাড়ি ভর্তি মিষ্টি নিয়ে এসেছিল আমার কাছে তার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, কিন্তু আমি তাকে ঢুকতে দিইনি। এটাকেই কী লিজেন্ড বলে? শুভ হোক এই দিনটি আপনার জীবনে!’

তার স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে চলছে সমালোচনা। মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে।

এক দিনে অর্ধশতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড !

0

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াল রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৫৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ১ হাজার ২৬২ জন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর এই প্রথম এক দিনে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৬২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪৮১ জন। আক্রান্ত শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা লাখের কাছাকাছি চলে গেছে। এক দিনে মৃত ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মিনিটে তিন জন আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রতি ঘণ্টায় দুই জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, করোনা ভাইরাসের কোনো ওষুধ নেই, চিকিত্সা নেই। একমাত্র ভরসা হলো সচেতনতা। বাঁচার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুুল্লাহ বলেন, বর্তমানে দেশের আনাচেকানাচে সব জায়গায় মানুষ করোনা ভাইরাস বহন করছে। তাই শনাক্তকরণ পরীক্ষা যত বাড়বে, আক্রান্তের সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাবে। এটার শেষ কোথায় বলা মুশকিল। তবে যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাতে সামনে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। আক্রান্তের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে হাসপাতালে জায়গা হবে না রোগীর। রাস্তায় ও অ্যাম্বুলেন্সে রোগী মারা যাবে। তাই কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেটাই উত্তম ব্যবস্থা। এতে ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগবে না। সবার সচেতন হয়ে নিজের মৃত্যু নিজে ঠেকান। নিজের ক্ষতি নিজে করবেন না।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত যে হারে বাড়ছে তাতে হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়বে। এখনই হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী। আর আক্রান্ত যত হবে, তত বেশি মৃত্যু হবে। তাই সবারই প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শুধু সচেতনতাই পারে এর থেকে রক্ষা করতে। প্রত্যেক নাগরিককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, করোনা রোগীদের জন্য হাই ফ্লো অক্সিজেন নেজাল ক্যানুলা প্রয়োজন। এটি থাকলে এত ভেন্টিলেশনের আর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে এটি নেই।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর সাবেক পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহমান বলেন, এখন রেড, ইয়োলো ও গ্রিন জোন ঘোষণা নিয়ে সময়ক্ষেপণের সময় নয়। যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে রোগীদের কীভাবে চিকিত্সা সেবা দেওয়া যায়, তা-ই করা উচিত। আর ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে রেড জোনে লকডাউন দিলে কঠোরভাবে দিতে হবে। মানুষ যেন বাইরে বের হতে না পারে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মসজিদসহ বিভিন্ন জায়গায় এক্ষেত্রে বয়ান দিতে হবে। যেসব দেশের মানুষ সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেছে তারা সফল হয়েছে। এক্ষেত্রে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সচেতন হলে এই কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা মঙ্গলবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় গত ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়। তারপর গতকালই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড হলো। গত ১২ জুনের বুলেটিনে ৩ হাজার ৪৭১ জন নতুন রোগী শনাক্ত এবং ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক দিনে শনাক্ত আর মৃত্যুর সেটাই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা। গতকাল সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কোন পর্যায়ে আছে দেশ? এখন কি আমরা সংক্রমণের চূড়ায় (পিক) রয়েছি? নাকি এখনো পৌঁছেনি? তা না হলে চূড়ায় পৌঁছতে আর কত দিন লাগতে পারে? এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। মে মাসের শুরুতে যে সংক্রমণের সংখ্যা ছিল, তা এক মাসের ব্যবধানে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ হাজার ২৩৭ জন রোগী সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ২৬৪ জন। অধ্যাপ ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৭ জন পুরুষ, ছয় জন নারী। তাদের ৩৪ জন হাসপাতালে, ১৮ জন বাড়িতে মারা গেছে এবং এক জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের ৩০ জন ঢাকা বিভাগের, ১৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিন জন খুলনা বিভাগের, চার জন রাজশাহী বিভাগের, এক জন বরিশাল বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। মৃত ৫৩ জনের মধ্যে এক জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া আট জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের এবং এক জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।

মতলব উত্তরে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও ১ জনের মৃত্যু

0

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে শামসুল হক মোল্লা(৫৫) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোর ৩টায় ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, এ উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের মৃত. পেঙ্গু মোল্লার ছেলের শামসুল হক মোল্লা(৫৫)। মৃত ব্যক্তি কয়েকদিন আগে করোনা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের বাড়িতে আসেন। করোনা পরীক্ষা না করে সে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবার ভোর ৩টায় তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেলা ১০ টায় মৃত ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নিতে আসবে বলে জানা যায়।

এদিকে মৃত্যুর সাত ঘণ্টা পর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হলে ফলাফল সঠিক পাওয়া যাবে কি না এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

শুক্রবার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কাচারীকান্দি গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে জামান হোসেন মারা যায়

২০ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ পাস

0

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন পাস করেছে।

রবিবার বেলা ১১টার পর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফেসবুক লাইভে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, সারাদেশে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন।

তিনি জানান, সারাদেশে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ। কারিগরি বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

গতবছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন।

এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। তাদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ পাস করেছে। আর ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে পরীক্ষার ফলের অনুলিপি তুলে দেওয়া হয়।

সে সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

হানিফ সংকেতের ঈদের নাটক ‘দূরত্বের গুরুত্ব’

0

প্রতি ঈদের মত এবারও বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত নির্মাণ করেছেন ঈদের নাটক। তার এবারের নাটকের নাম ‘দূরত্বের গুরুত্ব’। প্রচারিত হবে এটিএন বাংলায় ঈদের দিন রাত ৮টা ২০ মিনিটে। হানিফ সংকেতের ঈদ নাটকের নামে যেমন ভিন্নতা থাকে গল্পেও থাকে তেমনি আলাদা স্বাদ ও বৈচিত্র্য। পাশাপাশি থাকে একটি সামাজিক বক্তব্য। তাই তার নাটক দেখার জন্য দর্শকদের একটি বাড়তি আকর্ষণ থাকে। হানিফ সংকেতের এবারের নাটকটি ধারণ করা হয়েছে মিরপুরের ফাগুন অডিও ভিশনের নিজস্ব কমপ্লেক্সে। ঈদের নাটক হলেও এটি এবারের ঈদে প্রচারিতব্য করোনা নিয়ে একমাত্র সচেতনতামূলক নাটক।

একটি পারিবারিক গল্প নিয়ে রচিত এই নাটক। দু’টি বাড়িতে পাশাপাশি দু’টি পরিবার বসবাস করেন। করোনার কারণে লকডাউনে থেকে এই দুই পরিবারের মধ্যে ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। করোনাকালে তাদের এই বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে রচিত হয়েছে হানিফ সংকেতের এবারের নাটক ‘দূরত্বের গুরুত্ব’। প্রতিবারের মত এবারও নাটকটি একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে-পারিবারিক গল্পের নাটক।’

নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, চঞ্চল চৌধুরী, মীর সাব্বির, সাঈদ বাবু, গোলাম ফরিদা ছন্দা, জিনাত শানু স্বাগতা ও শামীম।

নাটকের সূচনা সঙ্গীতের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সঙ্গীতায়োজন ও কণ্ঠ দিয়েছেন কিশোর। এটিএন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবারই হানিফ সংকেতের নাটকে আমাদের দর্শক থাকে বেশি। ঈদের দিনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও দর্শকরা এই নন্দিত নির্মাতা’র নাটক দেখতে বসেন। কারণ সবাইকে সব চ্যানেলে একাধিকবার দেখা গেলেও ঈদের দিন হানিফ সংকেত এর নাটক দেখা যায় শুধুমাত্র একটি চ্যানেলে, আর তা এটিএন বাংলা। তাই আমাদের বিশ্বাস বরাবরের মত এবারও এসময় এটিএন বাংলার দর্শক থাকবে সবচেয়ে বেশি।

মোংলা ও পায়রায় ১০, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

0

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার সকালে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড়টি আজ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস জানায়, এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকেলে বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের নিকট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারীবর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন সালাহ !

0

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমেই জিতেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট। নিজ দেশ মিশরেও খুব জনপ্রিয় মোহামেদ সালাহ। আর এবার তার মুখোশ পড়ে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন চার ডাকাত।

জানা গেছে, মিশরের রাজধানী কায়রোর পার্শ্ববর্তী নাসর শহরে একটি দোকানে মোহামেদ সালাহ’র মুখোশ পড়ে ডাকাতি করার চেষ্টা করে চার ডাকাত। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ওই দোকান থেকে তাদেরকে আটক করে। আটকের পর ওই ডাকাতদের কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশরের পুলিশ।

ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন সালাহ!

২০১৭ সালে রোমা ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দেয়ার পর থেকেই নিজেকে সেরা প্রমাণ করে যাচ্ছেন মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলের হয়ে তার চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখছে পুরো বিশ্ব। চলতি মৌসুমে প্রথম মিশরীয় ফুটবলার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তিনি। ডেইলি স্টার।

লকডাউনে ঘরে বন্দি মানুষ বেড়েছে নারী নির্যাতন !

0

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সাধারণ ছুটিতে অস্বাভাবিকভাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও শালিস কেন্দ্র, ব্র্যাকের মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিবেদনেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—কর্মহীন হওয়া, সারাক্ষণ ঘরে বন্দি থাকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করোনা প্রতিরোধে বেশি নজর দেওয়া এবং পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়ের মতো ঘটনা। গত ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে মহিলা পরিষদের তথ্যানুযায়ী—কুমিল্লা জেলার হোমনায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক বিধবা নারীকে গণধর্ষণ এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তালুক খুটামারা বটতলা এলাকায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুরে বাড়িভাড়া দিতে না পারায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কুলতলী গ্রামে চার সন্তানের বিধবা মাকে গণধর্ষণ, বরগুনার তালতলী উপজেলায় সাত বছরের মেয়ে শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাকে গণধর্ষণ এবং নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় বাল্য বিয়ের মতো ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবিংয়ের পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আকতার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু ইত্তেফাককে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষকে ঘরে রাখতে ব্যস্ত এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর নারী নির্যাতনের ঘটনা রোধে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নারী ও মেয়ে শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক অর্পিতা দাস জানান, ‘আগে যারা নির্যাতনের শিকার হতেন তারা এখন আরো বেশি নির্যাতিত হচ্ছেন। যারা নির্যাতিত হতেন না তারাও এসময় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ ১০৯-এ ফোন করে কাজ হয়নি।’

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘২০১০ ও ১৩ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখেছি দেশে ৬৫ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার। এই সময়ে আমরা ৩০ হাজার লোকের সঙ্গে কথা বলে পরিসংখ্যানটা করেছি। বর্তমানে নারী নির্যতনের সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি।’ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে ৯৯৯-এ পারিবারিক সহিংসতা বিষয় দুই হাজার ৪৩৮টি, নারী নির্যাতনের ১ হাজার ৬৩৫টি, বাল্য বিয়ে ১ হাজার ৫৮৪, উত্ত্যক্ত ৩৬২টি এবং শিশু নির্যাতনের ব্যাপারে ৫৭টি কল আসে। পুলিশের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা ইত্তেফাককে বলেন, ‘নির্যাতনের ব্যাপারে ফোন এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় । যে কেউ ৯৯৯-এ ফোন করে এই সেবা নিতে পারেন।’

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ইউএনএফপিএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—করোনাকালে নারীর স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ব্যাহত হবে। এসময় ১১৪ দেশে ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ঘরে থাকার কারণে পরিবারপরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে। ফলে ৭০ লাখ অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ হবে ও অনিরাপদ গর্ভপাত বাড়বে। একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, ‘নারীরা ঘরে বাইরে কাজ করতো। এখন ঘরে খাবার নেই। স্বামীর হাতে টাকা নেই। ফলে অত্যাচারটা নারীর ওপরই আসছে। খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতায় কন্যাশিশুকে বিয়ে দিচ্ছে।’

Banglatimes64.com

Editors By: Shamim Ahmed Joy