লকডাউনে ঘরে বন্দি মানুষ বেড়েছে নারী নির্যাতন !

0
71
Spread the love

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সাধারণ ছুটিতে অস্বাভাবিকভাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও শালিস কেন্দ্র, ব্র্যাকের মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিবেদনেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—কর্মহীন হওয়া, সারাক্ষণ ঘরে বন্দি থাকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করোনা প্রতিরোধে বেশি নজর দেওয়া এবং পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়ের মতো ঘটনা। গত ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে মহিলা পরিষদের তথ্যানুযায়ী—কুমিল্লা জেলার হোমনায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক বিধবা নারীকে গণধর্ষণ এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তালুক খুটামারা বটতলা এলাকায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুরে বাড়িভাড়া দিতে না পারায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কুলতলী গ্রামে চার সন্তানের বিধবা মাকে গণধর্ষণ, বরগুনার তালতলী উপজেলায় সাত বছরের মেয়ে শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাকে গণধর্ষণ এবং নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় বাল্য বিয়ের মতো ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবিংয়ের পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আকতার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু ইত্তেফাককে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষকে ঘরে রাখতে ব্যস্ত এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর নারী নির্যাতনের ঘটনা রোধে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নারী ও মেয়ে শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক অর্পিতা দাস জানান, ‘আগে যারা নির্যাতনের শিকার হতেন তারা এখন আরো বেশি নির্যাতিত হচ্ছেন। যারা নির্যাতিত হতেন না তারাও এসময় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ ১০৯-এ ফোন করে কাজ হয়নি।’

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘২০১০ ও ১৩ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখেছি দেশে ৬৫ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার। এই সময়ে আমরা ৩০ হাজার লোকের সঙ্গে কথা বলে পরিসংখ্যানটা করেছি। বর্তমানে নারী নির্যতনের সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি।’ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে ৯৯৯-এ পারিবারিক সহিংসতা বিষয় দুই হাজার ৪৩৮টি, নারী নির্যাতনের ১ হাজার ৬৩৫টি, বাল্য বিয়ে ১ হাজার ৫৮৪, উত্ত্যক্ত ৩৬২টি এবং শিশু নির্যাতনের ব্যাপারে ৫৭টি কল আসে। পুলিশের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা ইত্তেফাককে বলেন, ‘নির্যাতনের ব্যাপারে ফোন এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় । যে কেউ ৯৯৯-এ ফোন করে এই সেবা নিতে পারেন।’

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ইউএনএফপিএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—করোনাকালে নারীর স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ব্যাহত হবে। এসময় ১১৪ দেশে ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ঘরে থাকার কারণে পরিবারপরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে। ফলে ৭০ লাখ অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ হবে ও অনিরাপদ গর্ভপাত বাড়বে। একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, ‘নারীরা ঘরে বাইরে কাজ করতো। এখন ঘরে খাবার নেই। স্বামীর হাতে টাকা নেই। ফলে অত্যাচারটা নারীর ওপরই আসছে। খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতায় কন্যাশিশুকে বিয়ে দিচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here