দেশে কোন মানুষ অনাহারে নেই : কৃষিমন্ত্রী !

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এখন বাংলাদেশে কোন মানুষ অনাহারে থাকে না, করোনাসহ শত দুর্যোগের মাঝেও কেউ না খেয়ে থাকে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ, সার, বীজ, সেচসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান এবং ফসলের উন্নতজাত উদ্ভাবন ও চাষের ফলে দেশে কৃষিক্ষেত্রে ও খাদ্য উৎপাদনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।’

শুক্রবার ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (ডিকেআইবি) আয়োজিত ডিপ্লোমা কৃষিবিদ দিবস ২০২০’ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষি উন্নয়নের সম্মুখসারির সৈনিক হলেন কৃষক। ডিপ্লোমা কৃষিবিদরাও তাদের মতোই সম্মুখসারির সৈনিক। দেশে কৃষির যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে সেখানে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বড় অবদান রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষিবিদ এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণ একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণের সম্মান বাড়লে কৃষিবিদদের সম্মানও বাড়বে। যারা কৃষিবিদ এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়, ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সম্মান দিতে চায় না-তারা সংকীর্ণ মানসিকতার। তাদের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার সবসময়ই কৃষি ও কৃষকবান্ধব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়েছিলেন, তেমনি তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়েছেন। এসময় কৃষিমন্ত্রী ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের গেজেটেড পদমর্যাদা, পদোন্নতি, কাজের সুবিধার্থে মোটর সাইকল প্রদানসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো: হামিদুর রহমান বলেন, দেশের কৃষির সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবিদ এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল মুঈদ, কৃষি সম্প্রসারণ

অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, কেআইবির মহাসচিব খায়রুল আলম প্রিন্স, ডিকেআইবির সদস্য সচিব মো: মিন্টু খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতি ঘোষণা আজ !

মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা মূল্যায়নের পদ্ধতি বিষয়ে ঘোষণা আসবে আজ বুধবার। বেলা ১২টায় ভার্চুয়াল প্লার্টফর্মে সংবাদ সম্মেলন করে কোন পদ্ধতিতে বার্ষিক পরীক্ষা পদ্ধতির মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিনি একটি সংবাদ বিবৃতি দেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চা অব্যাহত রাখতে অনলাইন ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

‘শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরিতে’ তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী !

আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে মিশে ‘শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ায়’ ঢাকার তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই ব্যক্তির অভিযোগের পর দীর্ঘ দিন অনুসন্ধান চালিয়ে বোরহান উদ্দিন (২৬), মো. আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ (২৫) ও মো. অভি হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি) জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর, পল্লবী ও রামপুরা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে সিটিটিসির সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই তিন যুবক ঢাকার প্রথম সারির তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিন জনই শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরির কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন তারা কারাগারে আছেন। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও কম্পিউটার ছাড়াও ৩০ জিবি ভলিউমের ৩ হাজার ৩১৬টি ফাইল জব্দ করা হয়। এগুলোর মধ্যে ৪৫ জন ‘ভিকটিমের’ নগ্ন ছবি রয়েছে।

এরা সাধারণত ৯ থেকে ১৫ বছরের ছেলেমেয়েদের ‘টার্গেট’ করতেন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ইশতিয়াক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে তারা দেশের বাইরের শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশে কাজ করে।

তারা নামকরা স্কুলের শিশু-কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করত এবং নানাভাবে অসামাজিক কাজে উত্সাহিত করার মাধ্যমে নুড কনটেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দিত। নিবন্ধিত সদস্য হিসাবে তারা অশ্লীল ডার্ক ওয়েবসাইটে ঢুকত। এই চক্র কখনো কখনো অবস্থাসম্পন্ন শিশুর অভিভাবকের কাছে কনটেন্ট পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে জানান তিনি।

সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক বলেন, এছাড়া তারা কখনো কখনো সমকামী হিসেবেও অনলাইনে নিজেদের পরিচয় দিতেন। গ্রেফতারের পর এক দিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পরদিন রবিবার আদালতে পাঠালে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ধর্ষণ মামলায় মেডিকেল রিপোর্ট মুখ্য নয়: হাইকোর্ট

শুধু ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়ার কারণে ধর্ষণ মামলার আসামি খালাস পেতে পারে না। ভিকটিমের মৌখিক সাক্ষ্য ও অন্যান্য সাক্ষ্য দ্বারা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ভিত্তিতে তাকে সাজা দেয়া যেতে পারে।

ইব্রাহিম গাজী বনাম রাষ্ট্র মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেছেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ধর্ষণের মামলায় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ইব্রাহিম গাজীকে যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন তা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এ রায় দেন।

আদালত রায়ে বলেছেন, ধর্ষণ মামলায় মেডিকেল রিপোর্ট মুখ্য নয়, শুধু মেডিকেল রিপোর্ট না থাকার কারণে ধর্ষণ মামলা অপ্রমাণিত বলে গণ্য হবে না। ভুক্তভোগীর মৌখিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দ্বারা আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তার ভিত্তিতে আসামিকে সাজা প্রদান করা যেতে পারে। তাই মেডিকেল রিপোর্ট না থাকার কারণে যে আসামি ধর্ষণ করেনি মর্মে খালাস পেয়ে যাবে, এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি এ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। বুধবার এ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মধ্যরাতে নারীদের ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা !

ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ১২ দফা দাবি নিয়ে মধ্যরাতে ঢাকার রাজপথে মশাল হাতে পদযাত্রায় নামল একদল নারী। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শাহবাগ থেকে ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’র ব্যানারে এই আলোর মিছিলে অংশ নেন একাধিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা। মশাল হাতে শাহবাগ থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মানিক মিয়া এভিনিউতে পদযাত্রাটি শেষ হয়।

 

নারী মুক্তি ও দেশের বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তোলা, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে, স্বাভাবিক মানুষের মতো নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকারের দাবিসহ মোট ১২টি দাবি নিয়ে এ পদযাত্রা। দাবিগুলো হলো,

১। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনে ও সামাজিকভাবে ধর্ষণের সংজ্ঞায়ন সংস্কার করতে হবে।

২। পাহাড় ও সমতলের সব নারীর উপর সামরিক ও বেসামরিক সব প্রকার যৌন এবং সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বয়স-লৈঙ্গিক পরিচয় নির্বিশেষে যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে যেকোনোভাবেই ‘ভিক্টিম ব্লেমিং’ (দোষারোপ করা বা নিন্দা জানানো) বন্ধ করতে হবে। গ্রামীণ সালিশ/পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

৪। প্রাথমিক থেকেই পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষা (গুড টাচ ব্যাড টাচের শিক্ষা, সম্মতি বা কন্সেন্ট এর গুরুত্ব, প্রাইভেট পার্টস সম্পর্কে অবহিত করা) যুক্ত করতে হবে।

৫। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫৫(৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৬। হাই কোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

৭। সিডও সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৮। মাদ্রাসার শিশুসহ সব শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলে ৯০ দিনের মাঝে দ্রুততম ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

৯। জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকে নারী অবমাননাকর বার্তা প্রকাশ ও প্রচার করা নিষিদ্ধ করতে হবে।

১০। রাস্তাঘাটে নারীদের অযথা পুলিশি ও অন্যান্য হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গণপরিবহনে নারীদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।

১১। ধর্মীয় বক্তব্যের নামে অনলাইনে ও অফলাইনে নারী অবমাননাকর বক্তব্য প্রচার বন্ধ করতে হবে।

১২। যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের সুবিধার্থে হটলাইনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

 

ধর্ষণ মামলার বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় নূরের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণ মামলার বাদী এক নারীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। ফেইসবুক লাইভে এসে ওই নারীকে এ কথা বলেছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নূর।

বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ভুক্তভোগী ওই নারী। এর আগে তিনিই নূরসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, চরিত্র হনন ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা মামলার আরজিতে দুইজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর করা ধর্ষণ মামলার আসামিদের ধরতে রবিবার মধ্যরাতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযানের মধ্যে ফেইসবুক লাইভে এসে ঘণ্টার বেশি সময় কথা বলেন সাবেক ভিপি নূর। এসময় এক ফাঁকে ওই বাদী নারী শিক্ষার্থীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ আখ্যায়িত করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্ত ছাড়ালো ৩ কোটি ৮০ লাখ

এদিকে ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার দাবিতে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে একাই অনশনে চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। এর মধ্যে একসময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই শিক্ষার্থী।

ঢাকার অর্ধেক মানুষ করোনা আক্রান্ত !

রাজধানী ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এন্টিবডি পরীক্ষায় এই ফল পাওয়া গেছে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দেশে করোনা পরিস্থিতি ও জিন রূপান্তর নিয়ে গবেষণার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যৌথভাবে এই গবেষণা করে।

গবেষণার জন্য রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টি ওয়ার্ড বেছে নেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি মহল্লা বাছাই করে ১২০টি বাড়ি এই জরিপে নেওয়া হয়। জরিপ চলে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত।

গবেষণার তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয়, এন্টিবডি পরীক্ষায় পাওয়া গেছে ঢাকার ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার বস্তিগুলোতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ শতাংশ মানুষ।

গবেষকরা বলেন, এই গবেষণা করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রোগীদের চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে ভ্যাক্সিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা ইউএসএ আইডি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। আর অনলাইনের মাধ্যমে যোগ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ইলিশ ভারতে রপ্তানি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে এক হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। যার মূল্য এক কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রতি কেজি ইলিশের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার। রপ্তানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ এক কেজি ২০০ গ্রাম। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ চালানে ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়।

শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুই দফায় ১৩ জন রপ্তানিকারকে মোট এক হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ১২ মেট্রিক টনের ইলিশের প্রথম চালান ভারতে রপ্তানি হয়। ৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টার সময় সর্বশেষ চালানে ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

২০১২ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর গত বছর শারদীয় দুর্গোৎসবে শুভেচ্ছা হিসেবে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

বিমানের আয়ের ৩০০ কোটি টাকা লোপাট, অনুসন্ধানে দুদক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অর্জিত আয় থেকে বছরে শত শত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে আয়ের অর্থ লোপাটের প্রমাণ পেয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে, একটি চক্র বিমানের বিভিন্ন ইউনিটের প্রকৃত আয়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ আয় কম দেখিয়ে এসব অর্থ লোপাট করেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন চক্রটি বিমানের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত্ করেছে।

উল্লেখ্য, অর্থ লোপাটের এসব ঘটনা বিমানের নিজস্ব তদন্তেও ধরা পড়ে। ২০১৬ সালে বিমানেরই নিজস্ব তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে তখন তদন্ত কমিটি অর্থ লোপাটের এসব ঘটনা নিরপেক্ষ কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করার সুপারিশও প্রদান করেছিল।

দুদক সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৃত ও প্রদর্শিত আয়ে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। বিমানের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন দুদক যাচাই-বাছাই করে এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানের ঊর্ধ্বতন বেশ কিছু কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এরপর দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় সম্প্রতি দুদক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় কমিশন উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি এরই মধ্যে বিমানের আয়ের অর্থ লোপাটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুতই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট দুদক সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১২০ ফ্লাইট অবতরণ করে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ১৫ ফ্লাইট রয়েছে, বাকিগুলো দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের। ৩০টির মতো কার্গো ফ্লাইটও ওঠানামা করে। ২০১৬ সালে বিমানের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিমানের গড় আয়ের এক হিসাবে দেখা যায়, ২০১৪ সালে বিদেশি উড়োজাহাজগুলো থেকে বিদ্যুত্ সার্ভিস প্রদান বাবদ মাসে বিমান ১৫ কোটি টাকা আয় করলেও দেখানো হয়ে ৮ কোটি টাকা। অর্থাত্ গড় হিসাবে বছরে এ খাত থেকে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

এছাড়া এয়ারকন্ডিশন ইউনিট থেকে মাসে ২৫ কোটি টাকা আয় হলেও দেখানো হয় ১০ কোটি টাকা। অর্থাত্ গড় হিসাবে বছরে এ খাত থেকে অনেক টাকা লোপাট করা হয়েছে। একইভাবে এয়ারক্রাফট পুশ টো-ট্রাক্টর থেকে ৫ কোটি টাকার আয়কে দেখানো হয় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা, অর্থাত্ গড় হিসাবে বছরে এ খাত থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াটার সার্ভিস ট্রাক থেকে ৫ কোটি টাকার স্থলে ৩ কোটি টাকা দেখিয়ে গড়ে বছরে ২৪ কোটি টাকা লোপাট, মেইন ডেক কার্গো লোডার থেকে ৪ কোটি টাকার বদলে ৩ কোটি টাকা আয় দেখিয়ে গড়ে বছরে ১২ কোটি টাকা, ট্রলি সার্ভিস ট্রাক থেকে মাসে সাড়ে ৬ কোটির স্থানে ৪ কোটি টাকা আয় দেখিয়ে গড়ে বছরে ২৪ কোটি টাকা লোপাট, কনভেয়র বেল্টের ৮০ লাখ টাকার বদলে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়ে গড়ে বছরে অনেক টাকা লোপাট এবং ফর্ক লিফট থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্থানে আড়াই কোটি টাকা আয় দেখিয়ে গড়ে বছরে ১২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সব মিলে বিমানে গড় হিসাবে বছরের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত দুদকে চলছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ষণপ্রবণতা বাড়াচ্ছে মাদক ও পর্নোগ্রাফি !

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে রেকর্ড হতে চলেছে দেশে। হঠাত্ যেন মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। একের পর এক ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোনোভাবেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে, চলন্ত বাসে, এমনকি নিজের ঘরে পর্যন্ত নেই নিরাপত্তা।

মনোবিজ্ঞানিরা বলেন, অতৃপ্ত যৌন আকাঙ্খা, দেয়ালে নগ্ন পোস্টার, যৌন উত্তেজক অবৈধ বইয়ের রমরমা ব্যবসা, অশ্লীল ছায়াছবি প্রদর্শন, ব্লু-ফিল্ম, চলচ্চিত্রে নারীকে ধর্ষণের দৃশ্যের মাধ্যমে সমাজে ধর্ষণ করার উত্সাহ যোগান, নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার, ইন্টারনেটে অশ্লীল সাইটগুলো উম্মুক্ত করে দেওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, ১৮ প্লাস চ্যানেলে নীল ছবি প্রদর্শন, যৌন উত্তেজক মাদক ইয়াবার বহুল প্রসার ইত্যাদি কারণে দিন দিন ধর্ষণ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ধর্ষণ মহামারী রূপ নেবে। নারীর প্রতি একের পর এক সহিংস ঘটনার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হিসেবে কেউ কেউ বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন।

চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা জানান, প্রায় ঘরে ইয়াবাসহ মাদক সেবন ও বিক্রি হচ্ছে। মাদক সাময়িক যৌন উত্তেজনা ঘটায়। আচরণে পরিবর্তন করে। তখন মানুষ নরপশু হয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। তবে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সাময়িক যৌন উত্তেজনা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ীভাবে যৌনক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। তিনি আরো বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো পর্ণোগ্রাফি। শিশুদের কাছে এখন অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন। তারা সহজেই পর্ণোসাইটে যেতে পারছে। শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য পর্ণোসাইটগুলো বন্ধ করা উচিত।

প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহিত কামাল বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে এখন মানুষ ঘরে থাকে এবং পর্ণোগ্রাফি দেখে। এতে অনেক পুরুষ যৌন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও ক্লাস বন্ধ, তারাও পর্ণোগ্রাফি দেখে। ২০ হাজারের উপরে পর্ণোসাইট আছে। এছাড়া মাদকের কারণে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ও ধর্ষকের বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার আরেকটি কারণ। তিনি আরো বলেন, অ্যালকোহল ও ইয়াবা আসক্তরা বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়। অনেকে যৌন সম্পর্ক করতে করতে নারীকে গলাটিপে হত্যা করে ফেলে।

সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং সেটার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক শিক্ষা, নারীকে হীন করে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দীর্ঘদিন ধরেই বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভিডিও চিত্রে দুর্বৃত্ত যাদের দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কৈশোর থেকে সদ্য তারুণ্যে পা দেয়া এই বয়সটিতে ক্ষমতা প্রদর্শনের এক ধরণের মানসিকতা কাজ করে বলে জানান মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যে জোয়ার উঠেছে সেটার কোন নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি না থাকায় কিশোর ও তরুণরা নৈতিক শিক্ষা থেকে ক্রমশ ছিটকে পড়ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, ধর্ষণের জন্য শুধুমাত্র দু’একটি কারণ দায়ী নয়, কারণ হিসেব করতে গেলে বহুমাত্রিক কারণ আমরা খুজে পাবো। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, নারীর জন্য তৈরী হওয়া নীতিমালা, গতানুগতিক চিন্তাধারা, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বিচারহীনতা ও বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, পর্ণোগ্রাফির ছড়াছড়ি ইত্যাদি ধর্ষণের কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নারী সুরক্ষার আইন ও নীতিমালার বিষয়ে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে নারীর সুরক্ষার জন্য আইন ও নীতিমালার দিক থেকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় সবার চাইতে এগিয়ে আছি, এটি আমাদের গর্বের জায়গা। কিন্তু এসব নীতিমালা ও আইনের বাস্তবিক প্রয়োগ প্রকৃতপক্ষে হচ্ছে না। যাদের শাস্তি পাওয়া উচিত, যেভাবে শাস্তি পাওয়া উচিত তারা সেভাবে শাস্তির মুখোমুখি হয়নি। ফলে মানুষের মাঝে ধর্ষণের পর শাস্তি ভীতি থাকে না।

ধর্ষণের ঘটনা যখন ঘটে তখন আশপাশের মানুষ তা প্রতিহত করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, মানুষ চাইলে প্রতিহত করতে পারে। কিন্তু তারা মনে করে এ ধরনের ঘটনায় জড়িয়ে পুলিশি ঝামেলায় কেউ পড়তে চায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধরনের আইন আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। রাজনৈতিক প্রভাব, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ইত্যাদির কারণে এসব আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না।